আড়পাংগাশিয়া প্রিয়নাথ মাধ্যমিক বিদ্যালয় অত্র এলাকার এক অতি প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। অত্র এলাকায় কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে ঐ পুরানো দিনের মানুষ গুলো তাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে লেখাপড়া শেখানোর জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অভাব অনুভব করেন। ঐ সমস্ত জ্ঞানী গুনী শিক্ষানুরাগী মানুষের সার্বিক সহয়োগিতায় ১.৭৩(এক একর তিহাত্তর) শতক জমির উপর স্বর্গীয় সুরেন্দ্র নাথ জোয়ারদার মহাশয় এবং তার ছোট ভাই স্বর্গীয় অভয় চরণ জোয়ারদার তাঁদের পিতা স্বর্গীয় প্রিয়নাথ জোয়ারদারের স্মরনে তাঁদেরই পিতার নামে আড়পাংগাশিয়া প্রিয়নাথ মাধ্যমিক বিদ্যালয় নামে প্রতিষ্ঠা করেন। স্থাপিত ইং ১৯৫৬ সাল। কিন্তু এই বিদ্যালয়টি দীর্ঘ দিন সরকারী অনুদান থেকে বঞ্চিত হয়। বিদ্যালয়টির ভূমিদাতা সদস্য স্বর্গীয় অভয় চরণ জোয়ারদার অত্র বিদ্যালয়ের নামে ১.৬৫ শতক জমি দানপত্র করে দেন এবং পরে এটা মাধ্যমিক বিদ্যালয় হিসাবে সরকারী অনুমোদন পায় ।
ইতিহাস বর্ণনা
আড়পাংগাশিয়া প্রিয়নাথ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ইতিহাস বর্ণনা করতে গিয়ে স্মরন করতে হয় সেই সমস্ত জ্ঞানী গুনী শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিবর্গ যাদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টা ও সহযোগিতায় আজ এক ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসাবে দন্ডায়মান হয়ে আছে। এমন এক দিন ছিল অত্র এলাকায় কোন মাধ্যমিক বিদ্যালয় ছিলনা। ছাত্র/ছাত্রীদের লেখা পড়া শেখানোর জন্য অনেক দূরে যেয়ে পরের বাড়ীতে অথবা বোর্ডিং-এ খরচ দিয়ে লেখাপড়া শিখতে হতো। এমন পরিস্থিতিতে স্বর্গীয় মহেন্দ্রনাথ জোয়ারদার, স্বর্গীয় সুরেন্দ্রনাথ জোয়ারদার এবং স্বর্গীয় অভয়চরণ জোয়ারদার এই তিন সহোদর ভাইয়ের মনের দৃড় সদইচ্ছায় এবং এলাকার গন্যমান্য সুধী ব্যক্তিবর্গের সার্বিক সহযোগিতায় প্রতিষ্ঠিত হলো ঐ তিন ভাইয়ের পিতা স্বর্গীয় প্রিয়নাথ জোয়ারদার মহাশয়ের নামে আড়পাংগাশিয়া প্রিয়নাথ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ইং-১৯৫৬ সালে। দীর্ঘর্ দিন এই প্রতিষ্ঠানটি সরকারী অনুদান থেকে বঞ্চিত থাকে। বিদ্যালয়ের প্রথম স্বীকৃতি রেজি নং-১১/১৭৯, তাং-২৬/১/১৯৭১, বরিশাল থেকে ০১/০১/১৯৭১ হতে ৩১/১২/১৯৭২ পর্যন্ত ২ বছরের জন্য প্রথম স্বীকৃতি লাভ করে। তখন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছিলেন মোঃ আবুল হোসেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় পাক হানাদার বাহিনী বিদ্যালয়টি সম্পূর্ণভাবে পুড়িয়ে দেয়। ০১/০১/১৯৬৯ সালে বাবু অসীম কুমার জোয়ারদার প্রধান শিক্ষক হিসাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং তাঁর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় বিদ্যালয়টি ধীরে ধীরে সার্বিক রুপকল্প তৈরী করেন । বিজ্ঞান বিভাগ-স্মারক সংখ্যা বি-অ/২/৬২৪, তাং-২৭/০৬/১৯৭৮, ০১/০১/১৯৭৬ হতে অনুমোদন লাভ করে । কম্পিউটার শিক্ষাÑবিঅ-৬/৪৮৩৯/২৩৩৩, তাং-২৬/০৭/২০০৬, ০১/০১/২০০৬ হতে অনুমোদন লাভ করে । কৃষি শিক্ষা-বিঅ-৬/৪৮৩৯/৬৬৬৭, তাং-০৩/১১/২০০৯, ০১/০১/২০০৯ তারিখ থেকে অনুমোদন লাভ করে। ব্যবসায় শিক্ষা-স্মারক নং –বিঅ-৬/৪৮৩৯/৪৬০, তাং-১৭/০২/২০১১, ০১/০১/১৯৯৯ তারিখে নবম শ্রেণীতে এবং ০১/০১/২০০০ সালে দশম শ্রেণীতে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড , যশোর থেকে অনুমোদন লাভ করে । এসেছেন নতুন নতুন প্রতিভাবান শিক্ষক। আবার অকালে ঝরে পড়েছে বিদ্যলয়ের তদানিন্তন সহকারী প্রধান শিক্ষক মোঃ বাবর আলী এবং সহকারী শিক্ষক স্বর্গীয় নিশিকান্ত জোয়ারদার। প্রতিনিয়ত ভাঙাগড়ার মাঝখানে ছাত্র /ছাত্রী নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি পথ এগুতে থাকে। প্রতি বছর এস,এস,সি পরীক্ষায় শতভাগ ও আশাতীত সাফল্যের সহিত ছাত্র-ছাত্রী উত্তীর্ণ হয়। পড়াশুনার পাশাপাশি খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনেও অত্র এলাকার একটা সুনামের স্বাক্ষর বহন করে চলতে থাকে। যারা অত্র এলাকার এই প্রতিষ্ঠানের কাছে এটাই প্রত্যাশা করে ছিলেন। তারা এখন আর কেউ এ পৃথিবীতে বেঁচে নেই। এর আশে পাশে আরো অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এখন প্রতিষ্ঠিত হলেও বিদ্যালয়টি বর্তমানে অত্র এলাকার সেরা প্রতিষ্ঠানের মর্যাদায় আজও দন্ডায়মান হয়ে আছে। বর্তমান শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি ভবন পাকা ও আধা পাকা, বিস্তৃত খেলার মাঠ, স্নানের পুকুর, চারিদিকে বৃক্ষরাজী দ্বারা সুশোভিত। বিদ্যালয়ে বিজ্ঞানাগার, গ্রন্থাগার, কম্পিউটার নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের মাধ্যমে বিদ্যালয়টি আধুনিক ও যুগোপযোগী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা লাভ করেছে। বিদ্যালয়ের বর্তমান ছাত্র/ছাত্রী বেশী এবং অভিজ্ঞ শিক্ষক মন্ডলী দ্বারা পরিচালিত। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বাবু সৌমিত্র জোয়ারদার বিদ্যালয়ের ছাত্র/ছাত্রীদের আরো অধিকতর শিক্ষা সহযোগিতা দেওয়ার জন্য অক্লান্ত চেষ্টা করছেন। বিগত বছরগুলোতে শ্যামনগর উপজেলার মধ্যে গুনগত মানে জে,এস,সি এবং এস,এস,সি পরীক্ষায় সেরাস্থান অধিকার করেছে। আশা করি অদূর ভবিষ্যতে এর ধারাবাহিকতা অব্যহত থাকবে এবং এর অতীত ইতিহাসকে সমুন্নত রাখবে।
